
মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বগাইছড়ি এলাকায় নির্বিচারে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহারিয়া, আবুল হোসেন, মহরম আলীসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। এতে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদী-খাল ও মাটির স্বাভাবিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নদী ও খালের তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন তলদেশের স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তিত হচ্ছে, অন্যদিকে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। অতিরিক্ত বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও স্থানীয় সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পরিবেশের ওপর বাড়ছে চাপ, নদী বা জলাশয় থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মাছের প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হওয়া, পানিতে অতিরিক্ত পলি মিশে পানি ঘোলা হওয়া এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তনের মতো পরিবেশগত সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বগাইছড়ির স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের কারণে নদী ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর ইতোমধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বালুবাহী যানবাহনের চলাচলে স্থানীয় সড়কের ক্ষতি, ধুলাবালি ও শব্দদূষণও বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের প্রশ্ন প্রকৃতি রক্ষায় নজরদারি কোথায়?
স্থানীয়দের দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, নির্ধারিত স্থান, পরিমাণ ও পরিবেশগত শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রশ্ন, প্রকৃতির বুক থেকে প্রতিদিন বালু সরিয়ে নেওয়া হলে নদী, মাটি, জীববৈচিত্র্য ও জনপদের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কে বহন করবে?
শাহারিয়া, আবুল হোসেন, মহরম আলীসহ যাদের নাম স্থানীয়রা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বার্থে বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।