
চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি
ইপিজেড থানাধীন বিএনপি দলীয় দুই নেতার ‘৬০-৪০’ গোপন চুক্তির অনৈতিক ব্যবসার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচারী শাসনে শত শত মিথ্যা মামলা, হামলা এবং অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হওয়া ইপিজেড থানার ৩৯ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাকর্মীরা স্বক্রিয়ভাবে পেশাগত কাজ ও বৈধ ব্যবসা ফিরে পেতে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত , অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজ ১৬ জুলাই,বিকেলে বৃষ্টি ভেজা বিকেলে ০৯ নং ঘাট এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,স্বৈরাচারের পতনের পরও এই অঞ্চলে শোষণের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি, কেবল হাত বদল হয়েছে ,অবৈধ মাসোহারার টেবিল বসিয়ে ৯ নম্বর ঘাটে একচেটিয়া ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে দলীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী নেতার প্রত্যক্ষ মদদে ডাঙ্গাচরের কুখ্যাত আওয়ামী দোসর ‘তেল শুক্কুর’ বাহিনীকে নতুন আঙ্গিকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ।
৩৯ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে কারা নির্যাতিত বিএনপি নেতা এইচ ,এম শাহানূর, যুব দলের মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোঃ ফারুক হোসেন, মোঃ খোরশেদ আলম, মোঃ রাসেদ মাহমুদ ইব্রাহীম, তরুণ বিএনপি নেতা মোঃ শাহজাহান,মোঃ পারভেজ হোসেন, মোঃ মাসুদ সহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় তারা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী ও কারা নির্যাতিত স্থানীয় নেতাকর্মীদের পক্ষে জনমত দেন।
এসময় তারা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কেন্দ্রিক ৯ নম্বর ঘাটের ব্যবসাটি ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে যুগ যুগ ধরে ইপিজেড থানার অন্তর্গত। কিন্তু বিগত ১৭ বছর ধরে ডাঙ্গাচরের কুখ্যাত আওয়ামী দোসর ‘তেল শুক্কুর’ বাহিনী এই অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ও ব্যবসা একচেটিয়াভাবে লুটে খেয়েছে এবং সাধারণ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রেখেছে।
স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বুক ভরে বাঁচার ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বিএনপি দলের থানা -ওয়ার্ড পর্যায়ের২/৩ জন শীর্ষ স্বার্থান্বেষী নেতা আজ সেই পুরোনো ফ্যাসিস্ট শোষকদের সাথে‘সিক্সটি-ফোরটি’ (৬০-৪০) শেয়ারের এক গোপন ও লজ্জাজনক চুক্তিতে মেতে উঠেছেন। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার মাসোহারা নিজেরাই পকেটে ভরে পুরোনো ফ্যাসিস্টদের আধিপত্য ধরে রাখার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে গুরতর অভিযোগ উঠেছে।
৩৯ নং ওয়ার্ডের বঞ্চিত, অবহেলিত ও কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীরা আরো বলেন সম্পূর্ণ বৈধ ও অনুমোদিত কাগজপত্র নিয়ে ৯ নম্বর ঘাটে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ফ্যাসিস্ট সরকারের তেল শুকুর গংদের হাতে অবৈধভাবে ব্যবসা ও কাজ তুলে দেন।
এর প্রতিবাদে ও বিক্ষোভ করায় ইপিজেড থানা যুবদল নেতা সাজ্জাদকে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে আহত করেছেন বলেও জানান। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে আমাদের হয়রানি করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, তৃণমূলের ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাত লাগিয়ে দেওয়ার জন্য কিছু সাধারণ ও অভাবী মানুষকে ‘পাহারাদার’ হিসেবে ঘাটে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।
যাঁরা আজ টাকার প্রলোভনে ৯ নম্বর ঘাটে গিয়ে অবস্থান করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন—একবার বুকে হাত দিয়ে ভাবুন, আপনারা কার স্বার্থ রক্ষা করছেন? নেতারা মাস শেষে লাখ লাখ টাকার মাসোহারা পকেটে ভরবে, আর আপনাদের কপালে জুটবে কেবলই বঞ্চনা, কলঙ্ক আর ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাতের নোংরা ইতিহাস।
নেতাকর্মীরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ব্যক্তিস্বার্থ আর টাকার পুতুল হয়ে থাকার দিন শেষ। তৃণমূলের অধিকার কেড়ে নিয়ে খুনি, ডাকাত ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন করার এই নোংরা নীতি রুখে দাঁড়ানোর জন্য তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ সহ জোরদার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, যুবদল-ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল,শ্রমিক দল ও তাঁতীদল কৃষক দলের নেতাকর্মীরা স্বক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন।