শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কোস্ট গার্ডের অভিযান; মায়ানমারে পাচারকালে ৪টি ট্রাক ভর্তি ইউরিয়া সারসহ ৩ পাচারকারী আটক ৫ বছরে বাসাভাড়া বেড়েছে ৩০-৭০ শতাংশ, সংকটে চট্টগ্রামের মধ্যবিত্তরা মেয়র একাডেমি কাপ ফুটবলে দঃ হালিশহর ফুটবল একাডেমির উপ-কমিটি গঠনঃ চেয়ারম্যান-দোস্ত মোহাম্মদ,টিম ম্যানেজার- বাবলা,কর্মকর্তা-সালাউদ্দিন  হালিশহরে শাণে গাওসে পাক (র:) ও জামে আউলিয়াকেরামের পথ পুনরুদ্ধার ও সালাতুসালাম সম্মেলন। সম্পত্তির বিরোধে’ বেলাল কোম্পানী’র লাশ দাফনকালে বাঁধা Kazanç dolu oyunlar Youwin hızlı giriş adresinde toplandı Kazanç dolu oyunlar Youwin hızlı giriş adresinde toplandı Kazanç dolu oyunlar Youwin hızlı giriş adresinde toplandı Kazanç dolu oyunlar Youwin hızlı giriş adresinde toplandı সিডিএফএ -মেয়র (অ-১৩) একাডেমী কাপ ফুটবল শুক্রবার থেকে শুরু: ফরিদ ফুটবল একাডেমি ও শোভনীয়া ফুটবল একাডেমি খেলবে

৫ বছরে বাসাভাড়া বেড়েছে ৩০-৭০ শতাংশ, সংকটে চট্টগ্রামের মধ্যবিত্তরা

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

মোঃ সেলিম উদ্দিন খাঁন

কর্মস্থল ও সন্তানের স্কুলের কাছে থাকতে চাইলে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। কম ভাড়ার বাসা খুঁজতে গেলে যেতে হচ্ছে নগরীর প্রান্তে। এতে বাসাভাড়া কমলেও বাড়ছে যাতায়াতের খরচ ও সময়। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট ও সার্ভিস চার্জসহ যুক্ত হচ্ছে নানা আবাসন ব্যয়। ফলে চট্টগ্রাম নগরীতে সীমিত ও নিয়মিত আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে বাসাভাড়া এখন বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দুই ও তিন বেডরুমের বাসাভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় বৃদ্ধির হার ৩০ শতাংশের বেশি, আবার কিছু ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। বর্তমানে ৭০০ থেকে ৯০০ বর্গফুটের দুই বেডরুম এবং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ বর্গফুটের তিন বেডরুমের বাসার চাহিদা বেশি। তবে ভবনের বয়স, অবস্থান, আয়তন, লিফট, নিরাপত্তা, পার্কিং ও অন্যান্য সুবিধার কারণে একই এলাকাতেও ভাড়ায় বড় পার্থক্য রয়েছে।

সরেজমিনে পাওয়া তথ্যানুসারে, পাঁচলাইশে বর্তমানে দুই বেডরুমের বাসার ভাড়া ১৫ থেকে ২৩ হাজার টাকা। ২০২১ সালে ছিল ১১ থেকে ১৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়া ধরে তুলনা করলে বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৬ থেকে ৬৪ শতাংশ। তিন বেডরুমের ভাড়া এখন ২৮ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, যা পাঁচ বছর আগে ছিল ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়া ধরে তুলনা করলে বৃদ্ধির হার প্রায় ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ।

আন্দরকিল্লা, সাবএরিয়া, রহমতগঞ্জ ও দেওয়ানজী পুকুর পাড় এলাকায় দুই বেডরুমের ভাড়া এখন ১৪ থেকে ২০ হাজার টাকা, ২০২১ সালে ছিল ৯ থেকে ১২ হাজার টাকা। তিন বেডরুমের ভাড়া বর্তমানে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা, যা পাঁচ বছর আগে ছিল ১৩ থেকে ১৬ হাজার টাকা। দুই বেডরুমে প্রায় ৫৬ থেকে ৬৭ শতাংশ এবং তিন বেডরুমে প্রায় ৫৬ থেকে ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে।

আগ্রাবাদে দুই বেডরুমের বাসা এখন ১৬ থেকে ২৫ হাজার টাকা, পাঁচ বছর আগে ছিল ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকা। তিন বেডরুমের ভাড়া ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ২০ থেকে ২৮ হাজার টাকা।

তুলনামূলক কম ভাড়ার এলাকাগুলোর মধ্যে বায়েজিদে দুই বেডরুমের বাসা ১০ থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকা এবং তিন বেডরুমের ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। চান্দগাঁওয়ে দুই বেডরুমের ভাড়া ১০ থেকে ১২ হাজার এবং তিন বেডরুমের ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা। বাকলিয়ায় বিভিন্ন কলোনিতে দুই বেডরুমের ভাড়া ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১২ হাজার এবং তিন বেডরুমের ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

তবে এসব এলাকায় গড়ে ওঠা নতুন ভবনের ভাড়া কলোনি কিংবা পুরোনো ভবনের তুলনায় কিছুটা বেশি। বহদ্দারহাটে দুই বেডরুমের ভাড়া ১০ থেকে ১৩ হাজার এবং তিন বেডরুমের ১৫ থেকে ১৯ হাজার টাকা পর্যন্ত।

চকবাজারের ডিসি রোডের বাসিন্দা বাবু চৌধুরী বলেন, ‘২০০৪ সাল থেকে তাহের কলোনিতে বসবাস করছি। এ এলাকায় বাসাভাড়া অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেকাংশে কম। কিন্তু কম ভাড়ার বাসায় থাকতে গিয়ে প্রতিবছর বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ভুগতে হয়।

বাসাভাড়া বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে নিম্ন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী, পোশাকশ্রমিক, ছোট ব্যবসায়ী, দোকানি, ওয়ার্কশপকর্মী এবং পরিবহন ও সেবাখাতের কর্মজীবীদের সংসারে ভাড়া কয়েক হাজার টাকা বাড়াও বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসাভাড়া সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর ধরে যুক্ত মো. জামাল বলেন, ‘বর্তমানে চকবাজার, জয়নগর, আন্দরকিল্লা, জামালখান ও পাথরঘাটা এলাকায় দুই ও তিন বেডরুমের বাসার চাহিদা বেশি। গত বছর যে বাসা ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হতো, এখন একই ধরনের বাসার জন্য ১৯ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।’

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নগরীর দেওয়ানজী পুকুর পাড়ের বাসিন্দা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দুই বছর আগে যে বাসার জন্য ১৬ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া দিতাম, এখন সেখানে আরও ১ হাজার ৫০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। কিন্তু আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। সামনে নতুন বছরে আরও ২ হাজার টাকা বাড়ানোর কথা শুনেছি। তখন সংসারের অন্য খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।’ পোশাকশিল্পে কাজের সুবাদে পাঁচ বছর ধরে ইপিজেড এলাকায় থাকেন ম্যামাসিং মার্মা। তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে যে বাসার ভাড়া দিতাম ৪ হাজার টাকা, এখন দিতে হয় ৭ হাজার টাকা। ওভারটাইমসহ মাস শেষে যে টাকা পাই, তার প্রায় অর্ধেকই বাসা ভাড়ায় চলে যায়।’ বাসা ভাড়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সন্তানদের স্কুলে যাতায়াতের খরচও। জামালখান, পাঁচলাইশ, চকবাজার, নাসিরাবাদ, ষোলশহর, মুরাদপুর ও খুলশীর মতো এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশি থাকায় এসব এলাকায় পরিবারের বাসা নেওয়ার চাহিদাও তুলনামূলক বেশি। কর্মস্থল ও সন্তানের স্কুলের কাছাকাছি থাকতে গিয়ে অনেক পরিবারকে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আবার কম ভাড়ার আশায় নগরীর প্রান্তিক এলাকায় বাসা নিলে সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়ায় বাড়ছে সময় ও যাতায়াত ব্যয়। ফলে কম ভাড়ার বাসা নিলেও অনেক পরিবারের সামগ্রিক আবাসন ব্যয় কমছে না।

ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাসা পরিবর্তন করতে গিয়েও পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়। ভাড়া বেড়ে গেলেও অনেক পরিবার সহজে বাসা পরিবর্তন করতে পারে না। কারণ নতুন বাসার অগ্রিম জামানত, মালামাল পরিবহন, শ্রমিক ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে বাসা বদলের সময় একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। ফলে বেশি ভাড়ার চাপ থাকলেও অনেকেই বাধ্য হয়ে পুরোনো বাসাতেই থেকে যান। নগরীর সাবএরিয়া এলাকার বাসিন্দা অনামিকা ঘোষ বলেন, ‘ভাড়া বেশি হওয়ায় বাসা পরিবর্তনের কথা ভাবছি। কিন্তু এক বাসা ছেড়ে অন্য বাসায় যেতে যে খরচ হয়, সেটাও কম নয়। বাসা পাল্টানোর সময় ঘরের জিনিসপত্রও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নানা অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়ার বাসায় থাকতে হচ্ছে।’

্সরকারি স্কুলের শিক্ষক মৃদুল দে বলেন, ‘কর্মস্থলের কাছে বাসা নিলে ভাড়া বেশি। আবার কম ভাড়ার বাসা নিতে গেলে অনেক দূরে যেতে হয়। তখন যাতায়াতে বাড়তি টাকা ও সময় ব্যয় হয়।’ চকবাজারের ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা প্রমি চৌধুরীর মেয়ে জামালখানের খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। প্রতিদিন মেয়েকে স্কুলে আনা-নেওয়ার পেছনে গড়ে প্রায় ৬০ টাকা খরচ হয়। মাসে ২০ দিন স্কুল চললে শুধু যাতায়াতেই খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা।

তার ভাষ্য, ‘চকবাজারে বাসাভাড়া কিছুটা কম হলেও মেয়ের স্কুলে যাতায়াতে প্রতিদিন বাড়তি খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিবারের মাসিক ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব পড়ছে।’ কর্ণফুলী ইপিজেড, সিইপিজেড ও কালুরঘাট শিল্পাঞ্চল ঘিরে শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসার মানুষের বসবাসের কারণে এসব এলাকায় ভাড়ার চাহিদা রয়েছে। কর্মস্থলের কাছে থাকতে চাওয়ায় ভাড়ার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। চট্টগ্রাম সুরক্ষা পরিষদের মুখপাত্র সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমি বলেন, ‘বাসাভাড়া বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি শ্রমজীবী এলাকা, যেমন চট্টগ্রাম ইপিজেড ও কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলে। কিন্তু সেখানে নাগরিক সুবিধা উপেক্ষিত। আবার অভিজাত এলাকাতেও প্রতিবছর ভাড়া বাড়ে।

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ভাড়াটিয়া পাওয়া মানে বাড়িওয়ালাদের ভাড়া বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ। সুনির্দিষ্ট আইন থাকার পরও প্রয়োগ না থাকায় এমনটি হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার যেমন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার তরফ থেকে নজরদারি বাড়ার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন নির্বাহী ক্ষমতা বলে বিশেষভাবে বিষয়টি দেখভাল করলে বাসা ভাড়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতির আওতায় আসতে পারে।’ ভাড়াটিয়াদের অভিযোগের বিপরীতে বাড়িওয়ালারা বলছেন, বাড়ি নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বেড়েছে। জমির মূল্য, নির্মাণসামগ্রী, ব্যাংক ঋণের সুদ, নিরাপত্তাকর্মীর বেতন, লিফট, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ায় ভাড়া সমন্বয় করতে হচ্ছে। হিলভিউ আবাসিক কল্যাণ সমিতির অর্থ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘চুক্তির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাসা ভাড়া বাড়ানো এখন ট্রেন্ড হয়ে গেছে। তবে আমাদের সোসাইটিতে ভাড়া বাড়ানোর পরিমাণ তুলনামূলক কম। অবচয়জনিত ব্যয়ের খরচ মেটানোর জন্য বাড়িওয়ালা বাসা ভাড়া বৃদ্ধি করেন।’ দুই বেডরুমের যে বাসা পাঁচ বছর আগে ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হতো, এখন তা হিলভিউ সোসাইটিতে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। একই ধরনের বাসা নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে ৪০ হাজার টাকার নিচে পাওয়া কঠিন বলেও জানান তিনি।

আন্দরকিল্লার বাড়িওয়ালা মো. এনাম বলেন, ‘বাড়ি নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাই ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব ব্যয় বিবেচনায় নিতে হয়।’ বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে ১৯৯১ সালের আইন থাকলেও চট্টগ্রামে এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। লিখিত চুক্তি না থাকা, ভাড়ার রশিদ না পাওয়া, অগ্রিম বা জামানত নিয়ে বিরোধ এবং বাসা হারানোর আশঙ্কায় অনেক ভাড়াটিয়া আইনি প্রতিকারের পথে যেতে চান না। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এ ভাড়া বৃদ্ধির ওপর বিধিনিষেধ, ভাড়া পরিশোধের রশিদ প্রদান এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী আর্শীবাদ বিশ্বাস বলেন, ‘বাড়িভাড়া নিয়ে বিরোধ হলে আইনি প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাসা হারানোর ভয়, দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অধিকাংশ ভাড়াটিয়া আদালতে যেতে চান না।’ নতুন ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়ার বিষয়ে আইনে যে বিধান রয়েছে, বাড়িওয়ালারা তা মানছেন না বললেই চলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার লিখিত চুক্তি ও নিয়মিত ভাড়ার রশিদের প্রচলন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আইনটি ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা উভয়েরই জানা উচিত। আবাসন সংকট মোকাবিলায় সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য দুই বেডরুম, ড্রইং ও ডাইনিংসহ প্রায় ৬৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্ণফুলী নদীর এপার ও ওপারে স্থান নির্বাচনের কাজ চলছে। মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট এবং রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের জন্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ বর্গফুটের আবাসন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামীম বলেন, ‘ষোলশহরে প্রায় ৭২ কাঠা জায়গা রয়েছে আমাদের। সেখান থেকে স্থান নির্বাচন করে ‘প্রবাসী পল্লী’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফতেয়াবাদে টাউনশিপের আওতায় ৮০০, ১ হাজার ও ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের আবাসিক ইউনিট ও কমার্শিয়াল স্পেস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।’ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বলেন, ‘বাসাভাড়ার সংকট শুধু বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার সম্পর্কের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জমির মূল্য, কর্মসংস্থানের কেন্দ্রীকরণ, জনসংখ্যার চাপ, ভূমির ব্যবহার এবং নগরের পরিবহনব্যবস্থা সরাসরি জড়িত।’ তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের বড় কর্মস্থল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবার বড় অংশ নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কেন্দ্রীভূত। ফলে মানুষ এসব এলাকার কাছাকাছি থাকতে চান। কিন্তু সেই তুলনায় সাশ্রয়ী আবাসনের সরবরাহ বাড়ছে না। প্রান্তিক এলাকায় ভাড়া কম হলেও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ও নাগরিক সুবিধার অভাবে সেসব এলাকা কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারছে না।’

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews