
মো সেলিম উদ্দিন খাঁন
কক্সবাজারের মহেশখালীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ রহমত উল্লাহ ওরফে বাশি (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি ভাড়া বাসা থেকে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নয়ন উদ্দিনের মাধ্যমে খবর পেয়ে মহেশখালী থানার এসআই মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি বাজার এলাকায় অভিযান চালান। সেখানে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক থাকা রহমত উল্লাহ ওরফে বাশিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে বাশি পুলিশকে জানান, কয়েকদিন আগে মিঠাছড়ি পশ্চিমপাড়ার পাহাড়ের ভেতরে মোতাহেরা বেগমের মালিকানাধীন একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে তিনি ও তার সহযোগী নমি উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। ওই ঘরে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম মজুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পরে বিষয়টি মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতানকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। গ্রেপ্তার বাশির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মিঠাছড়ি পশ্চিমপাড়ার পাহাড়ের ভেতরের ওই ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে গ্রেপ্তার বাশির দেখানো ও তার নিজ হাতে বের করে দেওয়ার ভিত্তিতে ওই কক্ষের খাটের নিচ থেকে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—বন্দুকের কাঠের বাট ৪টি, ট্রিগার ম্যাকানিজম ৪টি, অস্ত্র তৈরির ব্যারেলের অংশ ৬টি, ট্রিগার ৮টি, রিসিভার কভার সদৃশ অংশ ৫টি, বিভিন্ন আকারের স্প্রিং ১৫টি, অন্যান্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ১৫টি, লোহার হাতুড়ি ২টি, লেদ মেশিন ১টি, লোহার বাটাল ২টি, লোহার পাইপ ১টি, ড্রিল মেশিন ১টি, স্ক্রু ড্রাইভার ৩টি, করাত ১টি, হাতে চালিত ড্রিল মেশিন ১টি, পরিমাপ স্কেল ১টি, ইলেকট্রিক উড প্ল্যানার ১টি, লোহা কাটার গ্রাইন্ডার ১টি, দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ১টি, বড় টর্চলাইট ১টি, ইলেকট্রিক হ্যাকসো ১টি এবং লোহা কাটার হ্যান্ড করাত ১টি।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার বাশিকে জিজ্ঞাসাবাদে তার সহযোগী হিসেবে নমি উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে আশপাশের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার রহমত উল্লাহ ওরফে বাশিসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর-২৫, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬; জিআর-২৫৫/২৬। মামলায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত চক্রের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।