বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হোমনায় বিধবা নারীর জমি দখল ও হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন কিশোরগঞ্জ জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং বীর জুলাই যোদ্ধাদের সশ্রদ্ধ সংবর্ধনা  চট্টগ্রাম-রেলের টেন্ডারে শত কোটি টাকার কারসাজি, ১৭ বছর ধরে একই ঠিকাদার, অথচ নিজের কোনো কারখানাই নেই পতেঙ্গায় ঋষি অদ্বৈতানন্দ’র স্মরণে সার্বজনীন শান্তি ও মঙ্গল কামনায় পুঁথিপাঠ কর্ণফুলী টানেলে যান চলাচল বাড়াতে টোল কমানোর চিন্তা করছে সরকার ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপুতি উপলক্ষে নগরীতে ক্রীড়া দলের পথসভা ও শোভাযাত্রা  স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম  জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে খাল পুনরুদ্ধারে জোর দিলেন চসিক মেয়র জুলাইয় গণহত্যার বিচার ও‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে দক্ষিণ হালিশহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল ১৪ আগষ্ট থেকে চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃ স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট: ৪৮ দল ১২ গ্রুপে বিভক্তি প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম-রেলের টেন্ডারে শত কোটি টাকার কারসাজি, ১৭ বছর ধরে একই ঠিকাদার, অথচ নিজের কোনো কারখানাই নেই

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন

চট্টগ্রামে-রেলের লোকোমোটিভ সচল রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজ। সেই কাজ ঘিরেই বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার চক্র। অভিযোগ উঠেছে, উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলেও শর্ত এমনভাবে সাজানো হয় যে শেষ পর্যন্ত কাজ চলে যায় একই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিষ্ঠানের হাতে। দরপত্রের শর্ত পরিবর্তন, প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে বেশি দামে কার্যাদেশ, নিজস্ব কারখানা না থাকা সত্ত্বেও কাজ পাওয়া এবং রেলের কারখানা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রাকশন মোটর মেরামত কার্যক্রম নিয়ে।

এই ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ৮ মার্চ তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এই ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ৮ মার্চ তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সবশেষে ৩৪টি ট্রাকশন মোটর মেরামতের প্রায় ৬ কোটি টাকার একটি দরপত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে শত কোটি টাকার ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজ করে আসা ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাস এখনও ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সেই কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, রেলের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ট্রেনের ‘প্রাণশক্তি’ ট্রাকশন মোটর,রেলওয়ের একটি লোকোমোটিভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলোর একটি হলো ট্রাকশন মোটর। ট্রেনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার মূল শক্তিই এটি। এই মোটরই ট্রেনের চাকা ঘুরিয়ে দেয়। এই মোটরই বিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে ট্রেনের চাকায় গতি সঞ্চার করে এবং ট্রেন চলাচলের শক্তি জোগায়। ভারী ট্রেন টানা, উঁচু পথে ওঠা এবং ব্রেক করার সময় পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের (রিজেনারেটিভ ব্রেকিং) কাজও করে ট্রাকশন মোটর। সাধারণত লোকোমোটিভের বগির নিচে একাধিক ট্রাকশন মোটর স্থাপন করা হয়। আধুনিক লোকোমোটিভে ব্যবহৃত এসি ট্রাকশন মোটর তুলনামূলক কম জ্বালানি খরচ করে, রক্ষণাবেক্ষণও কম লাগে এবং ট্রেনের চলাচলকে আরও শক্তিশালী ও মসৃণ করে। ফলে ট্রাকশন মোটরকে একটি ট্রেনের ‘প্রাণশক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।রেল সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ২৩০০, ২৪০০, ৬০০০ ও ৬১০০ সিরিজের লোকোমোটিভের ৩৪টি ট্রাকশন মোটর মেরামতের জন্য প্রায় ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ বেশি অর্থাৎ ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৫২ হাজার ৬০৪ টাকায় কার্যাদেশ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সৃজা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ’।দরপত্র মূল্য বেশি হওয়া সত্ত্বেও মূল্যায়ন উপকমিটি ও কারিগরি কমিটি সেটিকে ‘বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ উল্লেখ করে অনুমোদনের সুপারিশ করে। এ দরপত্রকে ঘিরে আরও কয়েকটি প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, দরপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ১৭ ডিসেম্বর। পরে সৃজা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের আবেদনের পর তা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিজ্ঞতার শর্তেও পরিবর্তন আনা হয়।প্রথমে যেখানে অন্তত ৩০ লাখ টাকার সমজাতীয় কাজের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত ছিল, পরে তা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করা হয়। রেলের জবাবে বলা হয়, অভিজ্ঞতার মূল্যসীমা নির্ধারণের ক্ষমতা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের রয়েছে।অন্যদিকে সৃজা মেটাল দরপত্র মূল্যের ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অভিজ্ঞতার মানদণ্ড নির্ধারণের প্রস্তাব দিলেও রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় গোপনীয় তথ্য হওয়ায় আবেদনকারীর এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, অভিজ্ঞতা, টার্নওভার ও আর্থিক সক্ষমতার মতো শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যে নতুন বা মাঝারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে বছরের পর বছর একই গোষ্ঠী কাজ পেয়ে আসছে।তাদের ভাষ্য, ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও বাস্তবে শর্তের বেড়াজাল এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্যতা অর্জন করতে না পারে।আড়ালে একই ঠিকাদার,রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের অভিযোগ, ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাস। তাদের দাবি, প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই খাতের বড় অংশের কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে ‘মেসার্স সৃজা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ’ ও ‘মেসার্স রোপিতা এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজ নেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠান দুটি আগে দীপ্তি রাণী দাশের নামে নিবন্ধিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠান দুটির নিয়ন্ত্রণ আফসার আলী বিশ্বাসের হাতে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঠিকাদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২১টি ট্রাকশন মোটর ও আর্মেচার মেরামতের কাজও এই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজস্ব কারখানা না থাকলেও কাজ মেলে রেলওয়ের দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজ পেতে হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মেরামত কারখানা থাকার কথা। কিন্তু আফসার আলী বিশ্বাসের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কারখানা না থাকলেও তারা বছরের পর বছর কাজ পেয়ে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের ভাষ্য, আফসার আলী বিশ্বাসের চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনোটিরই নিজস্ব অবকাঠামো বা পূর্ণাঙ্গ মেরামত কারখানা নেই। অথচ তারা রেলের কারখানাতেই মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, রেলের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় সরকারি কারখানার যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ব্যবহার করে এসব কাজ সম্পন্ন করা হয়। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্টরা আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন ঠিকাদার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন তালিকাভুক্ত ঠিকাদার বলেন, তাঁরা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব কারখানা স্থাপন করেছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনেছেন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলেছেন। তারপরও তারা কাজ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে যাদের নিজস্ব কারখানাই নেই, তারাই ধারাবাহিকভাবে বড় বড় কার্যাদেশ পেয়ে যাচ্ছেন।নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

ট্রাকশন মোটর মেরামতের মান নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনেক ক্ষেত্রে মেরামতের কয়েক মাসের মধ্যেই মোটর আবার বিকল হয়ে পড়ে। ফলে একই মোটর পুনরায় মেরামতের জন্য নতুন দরপত্র আহ্বান করতে হয়।রেল পরিবহন ও প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী ট্রেনের ট্রাকশন মোটর মাঝপথেই বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঢাকায় পৌঁছানোর পর ফিরতি যাত্রার আগেই মোটর অচল হয়ে পড়েছে। তখন বিকল্প ইঞ্জিন বা মোটর সংযুক্ত করে ট্রেন পরিচালনা করতে হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে কোটি কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে নিম্নমানের মেরামতের কারণে রেল কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজে এক বছরের ওয়ারেন্টি থাকার কথা থাকলেও অনেক মোটর সেই সময়ের অনেক আগেই বিকল হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের তদন্ত,ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ৮ মার্চ তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক (মানিলন্ডারিং) জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল, ২০১৭ সালের ৭ মার্চ ও ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল এবং ২০১৯ সালের ৩০ জুন সম্পাদিত ট্রাকশন মোটর মেরামতসংক্রান্ত চুক্তির সব নথির সত্যায়িত অনুলিপি দুদকে পাঠাতে বলা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে একই গোষ্ঠীর হাতে ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজ কেন্দ্রীভূত থাকায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগ অস্বীকার রেল কর্তৃপক্ষের, ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজে ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাসকে সুবিধা দেওয়া এবং তাঁর সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন। গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রেল ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ই-জিপি পদ্ধতিতে যোগ্যতাসম্পন্ন ঠিকাদাররাই দরপত্রে অংশ নেন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেই কাজ পান। কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ পেলে সেখানে তাঁর কিছু করার নেই। রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) ফকির মো. মহিউদ্দিনও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, টেন্ডারের সব শর্ত পূরণ করেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজে নতুন করে ‘নূরে এলাহী এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘কামাল এন্টারপ্রাইজ’ নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রামের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকারকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ট্রেনে রয়েছেন জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আর তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্ষোভ ঠিকাদারদের,রেলের তালিকাভুক্ত কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, ই-জিপি পদ্ধতি চালু হওয়ার পর অভিজ্ঞতা, বার্ষিক টার্নওভার ও আর্থিক সক্ষমতার মতো শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যে নতুন বা মাঝারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বড় দরপত্রে প্রতিযোগিতা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, বড় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে পুরোনো ঠিকাদারদের লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আর দীর্ঘদিন ধরে একই গোষ্ঠী কাজ পাওয়ায় তাদের অভিজ্ঞতার পরিধিও ক্রমাগত বাড়ছে, ফলে প্রতিটি নতুন দরপত্রেও তারাই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা নিজস্ব কারখানা স্থাপন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও দক্ষ জনবল তৈরিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু বাস্তবে সেই অবকাঠামোর মূল্যায়ন না হয়ে বরং এমন প্রতিষ্ঠানই কাজ পাচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে নিজস্ব কারখানা না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

শেষ হয় না একই চক্রের দৌরাত্ম্য,অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ৩৪টি ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজও সৃজা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের হাতে গেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নামে ভিন্ন প্রতিষ্ঠান থাকলেও নেপথ্যে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের ভাষ্য, দরপত্রের শর্ত, অভিজ্ঞতার মানদণ্ড ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যে প্রতিযোগিতার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে।

এদিকে অনুসন্ধান চলাকালে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ট্রাকশন মোটর ও আর্মেচার মেরামতের আরও কয়েকটি নতুন দরপত্রের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ রয়েছে, সেই কার্যাদেশও একই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। ট্রাকশন মোটর মেরামত কার্যক্রম ঘিরে দরপত্র প্রক্রিয়া, যোগ্যতা নির্ধারণ, কার্যাদেশ প্রদান এবং সরকারি সম্পদের ব্যবহারের বিষয়ে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে পুরো প্রক্রিয়ার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews