রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
(সিআরএ)’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা রুবেল আহ্বায়ক সাইফুদ্দিন রমিজ সদস্য সচিব ১৮ দিনে তিন জাহাজে জলদস্যু হামলা, ১০ কোটি টাকার লুট বহির্নোঙরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কায় চট্টগ্রাম বন্দর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানে যুক্ত হচ্ছে নতুন পাঁচ উপজেলা কেয়া বৃত্তি ও গুণীজন সংবর্ধনা: দুই যুগ ধরে মেধা বিকাশ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান; মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সারসহ ২৩ পাচারকারী আটক চট্টগ্রামে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসব ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গোসাইলডাঙ্গা যুবক গোষ্ঠী একাডেমির সহকারী কোচ পবিত্র ওমরাহ হজ পালনে সৌদি গমনে শুভেচ্ছা বিনিময়  চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারালেন সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন সাগরে নৌকাডুবি: ১৮ রোহিঙ্গা জীবিত উদ্ধার   মরহুম সাঈদুর রহমান রিমনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিআরএ’র দোয়া মাহফিল

১৮ দিনে তিন জাহাজে জলদস্যু হামলা, ১০ কোটি টাকার লুট বহির্নোঙরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কায় চট্টগ্রাম বন্দর

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুদের ধারাবাহিক হামলায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর নতুন নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে। মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে তিনটি জাহাজে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ ও মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমদানিকারক, শিপিং অপারেটর ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ চেয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে বহির্নোঙরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দেশের সামুদ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবশেষ গত ১৬ জুলাই ভোরে চার্লি অ্যাঙ্করেজে নোঙর করা সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘তাই শুয়েন’-এ প্রায় ২০ জন সশস্ত্র জলদস্যু হামলা চালায়। পাঁচটি কাঠের নৌকায় করে এসে তারা জাহাজে উঠে নোঙরের দড়ি, ব্যাটারি ও অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। হংকং থেকে সীতাকুণ্ডের জনতা স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য জাহাজটি আনা হয়েছিল।

শিপিং এজেন্ট বেন লাইনের মালিক মোশাররফ হোসেন জানান, নাবিকদের ব্যস্ত রেখে দস্যুরা পরিকল্পিতভাবে ডেক থেকে সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যায়। জাহাজের ক্যাপ্টেন তাৎক্ষণিকভাবে বন্দর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বার্তা পাঠালেও কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এর আগে ২৯ জুন চার্লি অ্যাঙ্করেজে ডায়নামিক শিপ রিসাইক্লিংয়ের আমদানি করা ‘এমভি হাই জু’ জাহাজে ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র দস্যু উঠে নাবিকদের জিম্মি করে প্রায় এক কোটি টাকার যন্ত্রাংশ লুট করে। পরদিন যমুনা শিপ ব্রেকার্সের ‘এমটি আইআরওএস’ জাহাজ থেকেও কয়েক কোটি টাকার সরঞ্জাম চুরি হয়। পরে নৌপুলিশ রাজধানীর বাংলাবাজার এলাকা থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার চোরাই মালামাল উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিটি ঘটনায় কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানো হলেও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষ থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতেও এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে লুট হওয়া অধিকাংশ মালামাল এখনো উদ্ধার না হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিক্যাপের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে জলদস্যুতা বা চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে টানা তিনটি হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে নাব্য সংকটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য বহির্নোঙরে খালাস করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি বড় জাহাজ সেখানে অবস্থান করে এবং প্রায় দেড় লাখ টন পণ্য লাইটার জাহাজে খালাস করা হয়।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বহির্নোঙরের নিরাপত্তা দুর্বল হলে বিদেশি শিপিং কোম্পানির ঝুঁকি, বীমা ব্যয় ও আমদানি-রপ্তানির খরচ বেড়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ বার্থ অপারেটর অ্যান্ড শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সরওয়ার হোসেন বলেন, বছরের প্রথম চার মাস কোনো দস্যুতার ঘটনা না ঘটলেও হঠাৎ এ ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ বলেন, ছোট নৌকায় করে সংঘবদ্ধভাবে বড় জাহাজে উঠে দস্যুরা হামলা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। বহির্নোঙরে টহল বৃদ্ধি, অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োগ নিশ্চিত করা, জাহাজ আগমনের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে সরবরাহ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামীম বলেন, বহির্নোঙরের নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে। কোস্টগার্ড নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং চুরির ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews