
মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ১০ মাস ১৩ দিনে বিভিন্ন অপরাধে ১ হাজার ১৫৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে চাঞ্চল্যকর হত্যা, ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং বিপুল পরিমাণ মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এই ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ১ হাজার ১৫৮ জনের মধ্যে রয়েছেন— পেশাদার ডাকাত: ৪৩ জন মাদক কারবারি: ১৪৫ জন নিয়মিত মামলার আসামি ৩৫৮ জন (এর মধ্যে ‘ডেভিল’ অভিযানের আওতায় গ্রেপ্তার ৫৪ জন) সাজাপ্রাপ্ত আসামি: ৫৫ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি: ৪৫৪ জন অন্যান্য ঘটনায় ১০৩ জন চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ডাকাতি মামলার রহস্য উদ্ঘাটন অভিযানকালে উপজেলার দেওড়া গ্রামের মিন্টু হত্যা, পাকশিমুলের মিঠু হত্যা, কালিকচ্ছ দত্তপাড়ার সুমন হত্যা, কালিকচ্ছ মনিরবাগ গ্রামের কেয়ারটেকার নুর আহম্মদ হত্যা, সৈয়দটুলার রায়হান হত্যা, দেওড়ার আবু ছায়েদ হত্যা, ধরন্তী ও সূর্যকান্দির সংঘর্ষে হাদিম মিয়া হত্যা এবং কুট্টাপাড়ার জিহাদ হত্যাসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মূল আসামিসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর কুট্টাপাড়ার একটি এনজিও কার্যালয়ে ডাকাতির ঘটনায় মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মূলহোতা আব্দুল গাফ্ফারসহ ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পানিশ্বর শান্তিনগর এলাকায় ডাকাতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে লুণ্ঠিত ৩০ হাজার টাকা, দুটি রামদা, দুটি লোহার শাবল এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত পিকআপ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ২৩ জন
শাহবাজপুরে তিতাস নদীতে ভাসমান নৌকায় এক নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গরু ও চোরাই যানবাহন উদ্ধার বিজয়নগর থেকে ডাকাতি হওয়া ৩১টি ষাঁড়ের বাছুর ও একটি ট্রাক উদ্ধারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া গরু চুরির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার এবং চোরাই গরু পরিবহনের সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে। সরাইল মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে চুরির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৫টি স্টিলের জানালার কপাট ও ৬টি ফ্রেম উদ্ধার করা হয়।
দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার অভিযানে একটি রামদা, তিনটি লোহার পাইপ, ছোরা, কাটা, ছুরি, চাইনিজ কুড়াল ও জিআই পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া কালিকচ্ছ, দেওড়া ও সৈয়দটুলা থেকে ১৫০টি বল্লম ও বর্শা, ৭২টি টেটা এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০টি বাঁশের কঞ্চি উদ্ধার করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪৫ জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৫,৭৩১ পিস ইয়াবা, ২১৭ কেজি ১৫০ গ্রাম গাঁজা, ২ লিটার ৭৫০ মিলিলিটার চোলাই মদ এবং ২০৩ বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়েছে।
চোরাচালান বিরোধী অভিযান অভিযানে ভারতীয় চোরাচালান চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ১০ হাজার ৪৩৭ কেজি ভারতীয় জিরা, ১৯০ পিস প্যান্টিন শ্যাম্পু, ২ হাজার ৮৮০ পিস ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক চকলেট এবং ৩৪টি ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়।
সরাইল থানা পুলিশের এই তৎপরতায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অপরাধ দমনে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।