মো সেলিম উদ্দিন খাঁন
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ রুটে ট্রলার বা যাতায়াত ভাড়ার চেয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (BIWTA) নির্ধারিত জেটি টোল বা ফি অনেক বেশি হওয়ায় যাত্রী ও পর্যটকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নদী পারাপারে আসা-যাওয়ায় ট্রলার বা নৌকার ভাড়া যেখানে ৬০ টাকা, সেখানে শুধু জেটে প্রবেশ ও নামার টোল বাবদ গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা। অনুসন্ধানে জানা যায়- মহেশখালী ঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায় এবং চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গণ-অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার-মহেশখালী রুটে ট্রলারে যাতায়াতের মূল ভাড়া যেখানে মাত্র ৮০ টাকা, সেখানে কেবল জেটি ব্যবহারের টোল বাবদ একজন দেশীয় পর্যটককে গুণতে হচ্ছে ১০০ টাকা। এই নিয়মকে ‘এক দেশে দুই নীতি’ ও চরম বৈষম্য বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা।
বিআইডব্লিউটিএর নতুন নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, কক্সবাজার ঘাটে নামার সময় ৫০ টাকা এবং মহেশখালী থেকে ফেরার সময় আরও ৫০ টাকা টোল দিতে হয়। বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে এই ফি যাতায়াতে (প্রতি পিঠ ৬০০ টাকা)। অথচ স্থানীয় যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা। একই দেশের নাগরিকদের মধ্যে এমন আকাশচুম্বী টোল বৈষম্যের পাশাপাশি ঘাটে ন্যূনতম যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা না থাকায় ক্ষোভের আগুন আরও বাড়ছে।
চড়া টোল আদায় করা হলেও ঘাটগুলোতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য উন্নত কোনো বিশ্রামাগার নেই। সুপেয় পানি, মানসম্মত শৌচাগারের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ফি নেওয়া হলেও তাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কোনো অবকাঠামো বা নিরাপত্তা সুবিধা নেই।
সবচেয়ে বড় ভোগান্তি ও নৈরাজ্য হচ্ছে, কে স্থানীয় আর কে পর্যটক- তা যাচাইয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। ফলে ঘাটের ইজারাদারের লোকজনের হাতে প্রতিনিয়ত বাগবিতণ্ডা, লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিন যাতায়াত করা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকেও অনেক সময় ‘পর্যটক’ আখ্যা দিয়ে জোরপূর্বক অতিরিক্ত ফি দিতে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
মহেশখালীর ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া কিংবা পাহাড়ি দ্বীপের সৌন্দর্য দেখতে আসা পর্যটকরা ঘাটের এমন নোংরা পরিবেশ ও চড়া টোল দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল জানান, ট্রলার ভাড়ার চেয়ে টোল ফি বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে মহেশখালীতে পর্যটক আসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে, যা স্থানীয় পর্যটনশিল্পকে ধ্বংসের মুখে ফেলবে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর কক্সবাজার জেলার নৌ-পরিবহন পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন জানান, চলতি মাস থেকে কার্যকর হওয়া এই টোল বৃদ্ধির বিষয়টি সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং সরকারি গেজেট পর্যালোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, বিষয়টি তিনি জানেন। তবে ঘাট নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএর এবং এটি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন।
অনতিবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য টোলপ্রথা বাতিল এবং ঘাটের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা বাড়াতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগী ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, উপদেষ্টা: এডভোকেট কামরুল ইসলাম,
অফিস: শখ সেন্টার, ৫৬ পুরানা পল্টন, ঢাকা, মোবাইল: +8801554062639 , ইমেইল: mdreaiz18@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত