এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:
প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় এবং নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হয়নি। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়নি।
ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার মত সক্ষমতা অর্জন করলে তখন বর্তমান চাকরিচ্যুত কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়েছে মালিকপক্ষ।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ১১টি শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা আজ শনিবার (১ আগস্ট) থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন।
কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক বিভাগের সীমিতসংখ্যক কর্মী ছাড়া অন্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া শুরু হয় এবং শনিবার থেকে তা কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, এস আলম গ্রুপের মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।
বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, এস আলম স্টিল, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড এবং একটি পশুখাদ্য কারখানা।
তবে বাঁশখালীতে অবস্থিত এস আলমের মালিকানাধীন ১৩২০ মেঃওঃ এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট (কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) আগের মতোই চালু থাকবে।
ছাঁটাই নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, প্রায় দুই বছর আগে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় আট হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। ধাপে ধাপে জনবল কমিয়ে সর্বশেষ প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মী অবশিষ্ট ছিলেন। তাদের সকলের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত দুই বছর ধরে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে না থাকলেও কর্মরতদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় এবং নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হয়নি। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়নি।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার মত সক্ষমতা অর্জন করলে তখন বর্তমান চাকরিচ্যুত কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়েছে মালিকপক্ষ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, উপদেষ্টা: এডভোকেট কামরুল ইসলাম,
অফিস: শখ সেন্টার, ৫৬ পুরানা পল্টন, ঢাকা, মোবাইল: +8801554062639 , ইমেইল: mdreaiz18@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত