চট্টগ্রাম থেকে হোসেন বাবলা:
দীর্ঘ ১৭ বছরের রক্ত আর অশ্রুর প্রতিদান কি শুধুই বঞ্চনা? ইপিজেডের ৯ নং ঘাট এলাকায় স্বৈরাচারের দোসর পুনর্বাসন ও বিএনপি দলীয় দুই নেতার ‘৬০-৪০’ গোপন চুক্তির অনৈতিক ব্যবসার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীরা...+
১৭ বছর স্বৈরাচারী শাসনে শত শত মিথ্যা মামলা, হামলা এবং অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার ইপিজেড থানার ৩৯ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আজ চরম ক্ষোভ, অবহেলা ও বঞ্চনার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আজ দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরিতাপের বিষয়, স্বৈরাচারের পতনের পরও এই অঞ্চলে শোষণের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি, কেবল হাতবদল হয়েছে অবৈধ মাসোহারার টেবিল। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা কেন্দ্রিক ৯ নম্বর ঘাটের একচেটিয়া ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে দলীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী নেতার প্রত্যক্ষ মদদে ডাঙ্গাচরের কুখ্যাত আওয়ামী দোসর ‘তেল শুক্কুর’ বাহিনীকে নতুন আঙ্গিকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ৩৯ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীরা।
আজ শুক্রবার বিকেলে ৯ নং ঘাট এলাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে বক্তব্য রাখেন কারা নির্যাতিত বিএনপি নেতা এইচ এম শাহানূর, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, মোঃ ফারুক হোসেন, মোঃ খোরশেদ আলম, মোঃ রাসেদ মাহমুদ ইব্রাহীম, তরুণ বিএনপি নেতা মোঃ শাহজাহান সহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় তারা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী ও কারানির্যাতিত স্থানীয় নেতাকর্মীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কেন্দ্রিক ৯ নম্বর ঘাটের ব্যবসাটি ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে যুগ যুগ ধরে ইপিজেড থানার অন্তর্গত। কিন্তু বিগত ১৭ বছর ধরে ডাঙ্গাচরের কুখ্যাত আওয়ামী দোসর ‘তেল শুক্কুর’ বাহিনী এই অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ও ব্যবসা একচেটিয়াভাবে লুটে খেয়েছে এবং সাধারণ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রেখেছে। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বুক ভরে বাঁচার ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বিএনপি দলের থানা -ওয়ার্ড পর্যায়ের ২/১ জন শীর্ষ স্বার্থান্বেষী নেতা আজ সেই পুরোনো ফ্যাসিস্ট শোষকদের সাথে‘সিক্সটি-ফোরটি’ (৬০-৪০) শেয়ারের এক গোপন ও লজ্জাজনক চুক্তিতে মেতে উঠেছেন। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার মাসোহারা নিজেরাই পকেটে ভরে পুরোনো ফ্যাসিস্টদের আধিপত্য ধরে রাখার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে গুরতর অভিযোগ উঠেছে।
বক্তারা আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নেতৃত্বের নামে এই চরম বিশ্বাস ঘাতকতা সিইপিজেড ও কেইপিজেডের বিশাল শিল্পাঞ্চলের রাজত্ব গ্রাস করেও এই লোভী নেতারা তৃণমূলের রক্ত পানি করা ছোট ছোট ব্যবসার উপর শুকুনের দৃষ্টি দিয়ে ৩৯ নং ওয়ার্ডের বঞ্চিত, অবহেলিত ও কারানির্যাতিত নেতাকর্মীদের সম্পূর্ণ বৈধ ও অনুমোদিত কাগজপত্র নিয়ে ৯ নম্বর ঘাটে আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন।
এই বৈধ ব্যবসা ও পেশাগত কাজ প্রতিষ্ঠা করতে যাওয়া দলের কারা নির্যাতিত নেতা সাজ্জাদ এর উপর নেমে এল বর্বর আক্রমণ ও চরম নির্যাতন হামলার শিকার।
তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের তেল শুকুর গংদের সহযোগিতায় ইপিজেড থানা যুবদল নেতা সাজ্জাদকে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে আহত করেছেন,সাধারণ কর্মীদের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হলো এবং অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে আমাদের হয়রানি করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।"
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, তৃণমূলের ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাত লাগিয়ে দেওয়ার জন্য কিছু সাধারণ ও অভাবী মানুষকে ‘পাহারাদার’ হিসেবে ঘাটে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।
যাঁরা আজ টাকার প্রলোভনে ৯ নম্বর ঘাটে গিয়ে অবস্থান করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন—একবার বুকে হাত দিয়ে ভাবুন, আপনারা কার স্বার্থ রক্ষা করছেন? নেতারা মাস শেষে লাখ লাখ টাকার মাসোহারা পকেটে ভরবে, আর আপনাদের কপালে জুটবে কেবলই বঞ্চনা, কলঙ্ক আর ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাতের নোংরা ইতিহাস।
নেতাকর্মীরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ব্যক্তিস্বার্থ আর টাকার পুতুল হয়ে থাকার দিন শেষ। তৃণমূলের অধিকার কেড়ে নিয়ে খুনি, ডাকাত ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন করার এই নোংরা নীতি রুখে দাঁড়ানোর জন্য তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ সহ জোরদার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা কেন্দ্রিক ৯ নম্বর ঘাটের ব্যবসাটি কোনো বহিরাগত বা চাঁদাবাজ নয়, বরং স্থানীয় তৃণমূলের কর্মীরাই সুশৃঙ্খল ও বৈধভাবে পরিচালনা করবে। উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্ত ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে এই চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে এক সুরে, এক কাতারে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান ।
তারা উল্লেখযোগ্য দাবি জানান ১. "আজ আমরা এখানে কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের নাম ভাঙিয়ে চলা দুই সুবিধাবাদী নেতার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে এসেছি।"
২. ডাঙ্গাচরের বহিরাগতরা যে এসে স্থানীয় ঘাটে প্রভাব খাটাচ্ছে এবং সাজ্জাদের ওপর যে হামলা হয়েছে প্রতিবাদ করতে এসেছি।
৩. স্পষ্ট বার্তা: "আমরা শান্তিশৃঙ্খলা চাই, কিন্তু ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো পুনর্বাসন ৩৯ নং ওয়ার্ডে হতে দেব না"— এই বার্তাটি দিতে চায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, উপদেষ্টা: এডভোকেট কামরুল ইসলাম,
অফিস: শখ সেন্টার, ৫৬ পুরানা পল্টন, ঢাকা, মোবাইল: +8801554062639 , ইমেইল: mdreaiz18@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত